Ads1

বিদেশে গিয়ে ছোট কাপড়-চোপড় পরা ও বাড়তি অপবাদে শিক্ষার্থীকে সমাজচ্যুত

বিদেশে গিয়ে ছোট কাপড়-চোপড় পরা ও বাড়তি অপবাদে শিক্ষার্থীকে সমাজচ্যুত


কুলাউড়া প্রতিনিধি :: উচ্চশিক্ষার জন্যে সবারই ইচ্ছা থাকে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করার। ঝর্ণাও সেই স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে ছোট ছোট কাপড়-চোপড় পরেন এবং সেখানে গিয়ে এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেছেন এমন অভিযোগে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ঝর্ণা চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটি।


এই কান্ডে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। এ বিষয়ে ঝর্ণার বাবা আব্দুল হাই চৌধুরী সোমবার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


ঝর্ণার বাবা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঝর্ণা ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন। একটি সামাজিক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কও ছিলেন তিনি। নারী অধিকার নিয়ে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে এলাকার কিছু মানুষের বিরাগভাজন হন ঝর্ণা।


আমেরিকায় থাকা ঝর্ণার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে এলাকায় নানা অপবাদ প্রচার করে একটি গোষ্ঠি। বলা হয়, ঝর্ণা নাস্তিক হয়ে গেছেন ও সেখানে এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেছেন এবং ছোট ছোট কাপড়-চোপড় পরেন। এরপর স্থানীয় মসজিদ কমিটি সভা ডেকে আব্দুল হাইয়ের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেয়। এ ঘটনায় তিনি সামাজিকভাবে চাপে আছেন বলে জানান।


এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝর্ণার নামে কুৎসা রটান কিছু লোক। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় জিডিও করেছিলেন ঝর্ণা। পরে গত ২৬ ডিসেম্বর উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা চলে যান তিনি।

এ বিষয়ে ঝর্ণা কাছ থেকে জানা যায় , গত ২৬ ডিসেম্বর আমি উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় আসি। ২৭ ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় একটি মৌলবাদী গোষ্ঠি ফেসবুকে আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাতে থাকে। বিদেশ গিয়ে ছোট কাপড় পরছি, সেখানে হিন্দু ছেলে বিয়ে করেছি, নাস্তিক হয়ে গেছি- এই সেই নানা কিছু গল্প তারা তাদের মতো বানাতে থাকে।


পরদিন শুক্রবার স্থানীয় ভাটেরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পঞ্চায়েত কমিটি আমার বাবা আব্দুল হাইকে সালিশ বৈঠকে ডাকেন। গুরুতর অসুস্থ থাকায় বাবা যেতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মাখন মিয়া ও সম্পাদক আমিন মিয়ার নির্দেশে আমার পরিবারকে সমাজচ্যুত করে দেয়া হয়।

ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। সামাজিকভাবে তাদেরকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, তার জন্য আমি কমিটিকে সতর্ক করে দিয়েছি। আমি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে অফিসে আসতে বলেছি। ইউএনও জানান ঝর্ণার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানাকেও অবগত করা হয়েছে। 

জাফলং নিউজ/ডেস্ক