Ads1

ইভোম্যাক্স আইটির বর্ষপূর্তিতে বনভোজন

ইভোম্যাক্স আইটির বর্ষপূর্তিতে বনভোজন


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::
উঁচু পাহাড় আর চিরসবুজে ঘেরা চারিদিক। পাহাড় থেকে অনবদ্য ঝন ঝন শব্দে ঝরছে ঝর্নাধারা। কোলাহলমাখা পরিবেশে এই দৃশ্য দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেড়াতে আসছেন পর্যটকেরা। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত হিসেবে সমধিক পরিচিত 'মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত' যা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। এই মনোরোম পরিবেশে প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বনভোজন করে ইভোমাক্স আইটি।

গতকাল বুধবার দিনব্যাপী ছিল ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি ইভোম্যাক্স আইটির আয়োজনে এই বনভোজনে অংশগ্রহণ করেন এজেন্সির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম, কামরান আহমদ, মুজিবুল হক, আবু খালেদ মাসুম, জাহান সায়েম, মুস্তাক আহমদ। 

দীর্ঘসময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয় তাদের। একটানা এক চেয়ারে বসে কাজ করতে অনেক সময় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মাঝে মধ্যে একটু বিশ্রামের প্রয়োজন, প্রয়োজন কিছু বিনোদনেরও। তাই প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটের সৌন্দর্যমন্ডিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বনভোজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইভোম্যাক্স আইটি। 

জানাযায়, অনবদ্য এই ছড়া মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত হয়ে নিচে পড়ে হয়েছে মাধবছড়া। অর্থাৎ গঙ্গামারা ছড়া হয়ে বয়ে আসা জলধারা।  প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু থেকে নিচে পড়ে মাধবছড়া হয়ে প্রবহমান। সাধারণত একটি মূল ধারায় পানি সব সময়ই পড়তে থাকে, বর্ষাকাল এলে মূল ধারার পাশেই আরেকটা ছোট ধারা তৈরি হয় এবং ভরা বর্ষায় দুটো ধারাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় পানির তীব্র তোড়ে। জলের এই বিপুল ধারা পড়তে পড়তে নিচে সৃষ্টি হয়েছে বিরাট কুণ্ডের। এই মাধবছড়ার পানি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হতে হতে গিয়ে মিশেছে হাকালুকি হাওরে।

কুণ্ডের ডানপাশে পাথরের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি গুহার, যার স্থানীয় নাম কাব। এই কাব দেখতে অনেকটা চালাঘরের মতো। মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে স্নানর্থীরা কাবের নিচে দাঁড়িয়ে ভিজা কাপড় পরিবর্তন করে থাকেন।

ডিরেক্টর অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সাইফুল আলম বলেন, কাজের ফাকে একটু বিনোদন প্রয়োজন। আমরা সহপ্রতিষ্ঠাতারা মিলে বর্ষপূর্তিতে ট্যুরে যেতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আমাদের এজেন্সি যেহেতু মৌলভীবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেহেতু মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতেই আমরা প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছি। 

ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন টেকনোলজি কামরান আহমদ জানান, আইসিটি মন্ত্রনালয় থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আমরা ইভোম্যাক্স আইটি প্রতিষ্ঠা করেছি। করোনা মহারীর কারণে আমরা সবাই রিমোটলি কাজ করতাম। এর আগে কখনো একে অপরের সাথে দেখা হয়নি। পরিশেষে সবাই বনভোজনে গিয়ে একত্রিত হলাম৷ বেকারদের কর্মসংস্থান গড়ার প্রত্যয়ে কাজের গতি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।

মার্কেটিং কো-অর্ডিনেটর আবু খালেদ মাসুম জানান, লকডাউনে থেকে সবাই খুব বিরক্ত হয়ে পড়ছিলাম তাই আমরা  আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্ল্যান করছিলাম। মানুষ বরাবরই চায় অজানাকে জানতে, অদেখাকে দেখতে। এক সাথে কাজ করছি অনেক দিন তবে, সরাসরি দেখা হয়নি অনেকের সাথেই। একটা ভ্রমন হবে শুনে খুবই খুশি হয়েছিলাম। সবার সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ইভোম্যাক্স আইটি নিয়ে আমরা অবশ্যই ভালো কিছু করছি। সবাইকে নিয়ে আরো এগিয়ে যেতে চাই।