Ads1

চালু হচ্ছে ২৫ কোটি ব্যয়ে "জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক"

চালু হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক


প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক।

সিলেট শহরে শিশু-কিশোরদের জন্য সরকারি উদ্যোগের তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। এই অভাব পূরণের লক্ষে ২০০৬ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।  এদিকে সিলেট নগরীতে দিন দিন বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যাও। কিন্তু যান্ত্রিক এই শহরে সেভাবে বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা তেমন বাড়ছে না। তাই দীর্ঘদিন থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই নগরীর বাসিন্দাদের। নগরবাসীর দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পার্কটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। বিষয়টি মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছে সিসিক।

জানা যায়, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানের উদ্যোগে এই পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেসময়  মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণসহ পার্কের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। তখন পার্কটির নামকরণ এম. সাইফুর রহমানের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়লে বন্ধ হয়ে যায় পার্কটির কাজ। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমানের নামে থাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র এই পার্ক চালু করতে কোনো উদ্যোগ নেননি । এরপর ২০১৩ সালে বিএনপি দলীয় নেতা ও সাইফুর রহমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই পার্ক চালুর ব্যাপারে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে পার্কে বিভিন্ন রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়। চীন থেকে এনে বিভিন্ন আধুনিক রাইড বসানো, বিদ্যুৎসংযোগ চালুসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ হয় তখন। তবে এরপর থেকেই দেখা দেয় নামকরণ জটিলতা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) একটি সূত্র জানা যায়, সাইফুর রহমানের নামে পার্কটি নামকরণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালে এতে রাজী হয়নি মন্ত্রণালয়। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে পার্কটি শেখ হাসিনার নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়। এরপর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’, ‘দক্ষিণ সুরমা পার্ক’ নামে নামকরণের চেষ্টা চালানো হয়। এতে সফল না হওয়ায় আটকে যায় পার্ক চালুর উদ্যোগ। তবে শেষ পর্যন্ত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নামেই এই পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এই নামে পার্ক চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মন  ভালো রাখতে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিসিক।

প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই শিশু পার্কের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বিভিন্ন ধরণের রাইডও বসানো হয়েছে। কিন্তু সব কাজ শেষেও নামকরণ জটিলতায় চালু করা যায়নি পার্কটি। এদিকে দীর্ঘদিন অব্যহৃত অবস্থায় ফেলে রাখায় নষ্ট হচ্ছে রাইডগুলো। চুরি হয়ে যাচ্ছে ট্রান্সমিটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। তবে এরআগে ২০১৭ সালে পার্কে রাইড বসানোর কাজ শুরুর পর ৬ মাসের ভিতর পার্কটি চালু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল সিসিক। তবে রাইডগুলো বসানোর পর আরও ৪ বছর অতিক্রম হলেও শিশু পার্কটি চালু করতে পারেনি সিসিক।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান  বলেন, পার্কটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। বর্তমানে রাইড বসানোসহ প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলোরও কাজ চলছে। নাম সংক্রান্ত জটিলতাও আর নেই। ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নামেই পার্কটি চালু হবে।তিনি বলেন, বিদুৎ সাবস্টেশনের যে মালামাল চুরি হয়েছিল সেগুলোও আনা হয়েছে। ট্রান্সফরমার এখন বসাচ্ছি না। কারণ উদ্বোধনের আগে ট্রান্সফরমার বসালে চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই মেয়র মহোদয় উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করলে ট্রান্সফরমারটি বসানো হবে।  প্রকৌশলী মো. নূর আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) আরো বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পার্কটি চালু করা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে পরীক্ষামূলক চালুর অল্প দিনের ভেতরেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পুরোদমে চালু করা হবে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। পার্কটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের উদ্বোধনের কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিসিকের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার আলমপুরস্থ জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প খাতে সর্বশেষ ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। পার্কটির উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে, শেষ করে অচিরেই পার্কটি উদ্বোধন করা হবে।

২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে পার্কে রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়। তখন ছয় মাসের ভেতর পার্কটি চালু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাইড বসানোর পর দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু করা যায়নি পার্কটি। ২০০৬ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় পার্কটির জন্য বরাদ্দ আসে। তাই প্রথমে ‘সাইফুর রহমান পার্ক’ নামে কাজ শুরু হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হলে নাম নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে ৮ বছর পরিত্যক্ত থাকে পার্কটি। পরে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’ নামে পার্কটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক। তারপরও থেকে যায় জটিলতা। পরে পার্কটির নাম রাখা হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক। বর্তমানে পার্কের বরাদ্দ আসে ওই নামেই।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে পার্ক তৈরি করতে। সম্প্রতি ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পার্কটিতে ইতোমধ্যে ২০টির মতো রাইড বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাজিক প্যারাস্যুট, মনোরেল, ভিজিটিং ট্রেন, রেলগাড়ি, পাইবেটশিপ, স্নিপার, সিসরাইড, বোট, টুইস্টার, বাম্পার কার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, নাগরদোলা, ফ্যারসেল ও জাম্পিং ফ্রগসহ বেশ কয়েকটি রাইড উল্লেখযোগ্য।